চাঁদের বুড়ির বয়স যখন ষোলো (হার্ডকভার)

ভেঙ্গে গেলো তরবারি

    **** "ভেঙ্গে গেলো তরবারি" বইয়ের সংক্ষিপ্ত কথা” কাহিনী সংক্ষেপ পলাশীর রক্তাক্ত ইতিহাসে যেই বীর সেনাপতিকে কারার লৌহ কপাট ভাঙা বাঘ’ বলা হয়েছে। যার অক্লান্ত ও প্রাণপণ লড়াইয়ের ফল হিসেবে ‘পানিপথের বিজয়কে উৎসর্গ করা হয়েছে, সেই ‘মােয়াজ্জম আলী’র পরিবারকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে ‘ভেঙ্গে গেলাে তরবারির কাহিনী। বিবৃত হয়েছে ঘটনাচিত্র। এগিয়ে গেছে স্বাধীনতার স্বপ্নভঙ্গের করুণ ইতিহাস। বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিপর্যয়ের পর তাঁর বিশিষ্ট সেনানি মােয়াজ্জম আলীর পরিবার-পরিজন সুবে বাংলা থেকে হিজরত করে ভবিষ্যতের নতুন স্বপ্নে রওনা দেন পশ্চিমের দিকে। জাতির ইজ্জত ও স্বাধীনতা রক্ষার উত্তাল আবেগে যােগ দেন ভারতের স্বাধীনতা হত্যার চক্রান্তকারী ও সাম্রাজ্যবাদীদের প্রতিপক্ষ হায়দার আলীর সেনাবাহিনীতে। আবারও নতুন স্বপ্ন বুকে ধারণ করে আফগানিস্তানের পথে রওনা দেয় মােয়াজ্জম আলীর পরিজন। পরে হায়দার আলীর মৃত্যুর পর উত্থান ঘটে তার সুযােগ্য তনয় অমিতপুরুষ টিপু সুলতানের। কিন্তু মীর সাদিকের বিশ্বাসঘাতকতায় মহীশূরের স্বাধীনতা-সূর্য অস্তমিত হয়ে যায়। এভাবেই ভারতের স্বাধীনতা রক্ষার শেষ তরবারিটিও খান খান হয়ে যায়। পুরােপুরি অস্তমিত হয় স্বাধীনতার বিবর্ণ সূর্য, পাণ্ডুর হয়ে যায় অমিততেজা যুবকের নিয়ত দেখা রঙধনু। ইংরেজ ও জাতীয় শত্রুর বিরুদ্ধে স্বাধীনতা রক্ষার সেই সংগ্রামের প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষ নায়ক উপমহাদেশীয় স্বাধীনতা-সংগ্রামের ইতিহাসের সিংহপুরুষ মহীশূর-শার্দূল টিপু সুলতানের উত্থান ও বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে আবর্তিত কাহিনীকে উর্দু সাহিত্যের যশস্বী ঔপন্যাসিক নসীম হিজাযী রূপায়িত করেছেন ‘আওর তলওয়ার টুট গেয়ী’ শিরােনামে। বাংলা ভাষাভাষি সত্যসন্ধিৎসু পাঠকের জন্য এরই সরল ভাবানুবাদ- ভেঙ্গে গেলাে তরবারি। **** একদিন ফরহাত বালাখানার এক কামরায় বসে তাঁর পরিচারিকার সাথে কথা বলছেন। আচানক সিঁড়ির উপর কার ছুটে আসার আওয়াজ শোনা গেল। দেখতে দেখতে বারো বছরের কাছাকাছি বয়সের একটি শ্যামবর্ণ বালক এসে কামরায় প্রবেশ করলো। পরিচারিকা বললো: মুনাওয়ার, তুমি বড় নালায়েক হয়েছো। বিবিজী কতোবার তোমায় মানা করেছেন সিঁড়ির ওপর ছুটাছুটি করতে! মুনাওয়ার পরিচারিকার জওয়াব না দিয়ে ফরহাতকে লক্ষ্য করে বললো: আজ এক মেহমান এসেছেন। খুব বড় লোক মনে হচ্ছে। এসেই তিনি ভাইজান আনওয়ার আলী ও ভাইজান মুরাদ আলীর কথা জিজ্ঞেস করলেন। এরপর দীলাওয়ার আলী ও সাবেরের কথা জানতে চাইলেন। সাবের তো মরে গেছে। ফরহাত বললেন: তুমি তার নাম জিজ্ঞেস করনি? : জ্বী, তিনি নিজেই বললেন তার নাম আকবর খান! ফরহাতের কাছে এ খবর অসাধারণ! কয়েক মুহুর্ত তিনি নির্বাক হয়ে বসে রইলেন। আকবর খান একটি কুরসীর ওপর বসে ভাবছিলেন। মোয়াযযম আলীর সাহচর্যের দিনগুলির অগণিত ঘটনা একে একে ভেসে যেতে লাগলো॥ তিনি সেরিংগাপটমে আসবেন আর সেখানে মোয়াযযম আলী থাকবেন না, তার শাহাদাতের খবর পাবার আগে কখনো মনে আসেনি। ফরহাত একটি শাদা চাদরে আবৃত হয়ে কম্পিত কণ্ঠে সালাম দিলো, ভাই, আকবর, আসসালামু আলাইকুম। নসীম হিজাযীর অন্যতম শেষ্ঠ্র উপন্যাস খুন রাঙ্গা পথ এর ধারাবাহিকতায় টিপু সুলতানের প্রতিরোধ আন্দোলনের ইতিহাস এটি।
Cash On Delivery
7 Days Happy Return
Delivery Charge Tk. 50(Online Order)
নসীম হিজাযী
শরীফ হুসাইন(উর্দু: شریف حسین,ছদ্মনাম নসিম হিজাযী (উর্দু: نسیم حجازی হিসাবে বেশি পরিচিতি, জন্ম:১৯১৪ - মৃত্যু: ২ মার্চ ১৯৯৬) হলেন একজন পাকিস্তানি উপন্যাসিক ও লেখক, যিনি লেখালেখির সময় নসিম হিজাযী ছদ্মনাম ব্যবহার করেন। তিনি একজন উর্দু ভাষার লেখক। হিজাজী পাঞ্জাবের গুরুদাসপুর জেলার ধারওয়াল শহরের পাশের একটি গ্রাম সুজানপুরে জন্মগ্রহণ করেন। পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার পূর্বেই ১৯৪৭ সালে তার পরিবার লাহোরে বসবাস শুরু করে। তিনি তার জীবনের অধিকাংশ সময় পাকিস্তানে কাটিয়েছেন এবং ১৯৯৬ সালের ২ মার্চ তারিখে মৃত্যুবরণ করেন।


প্রাথমিক জীবন ও শিক্ষাদীক্ষা
নসিম হিজাজী ১৯৩২ সালে ধারওয়াল মিশন হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন। ১৯৩৮ সালে লাহোর রেলওয়ে রোড ইসলামিয়া কলেজ থেকে বিআই পাশ করেন। পড়াশোনা শেষে সাংবাদিকরা জগতে পা রাখেন। ১৯৪১ সালে করাচীর দুটি পত্রিকা ‘হায়াত’ এবং ‘জমানা’ এর সাথে যুক্ত ছিলেন। বেলুচিস্তান ও সিন্ধু অঞ্চলে পাকিস্তান আন্দোলনকে গ্রহণযোগ্য করার জন্য তিনি মীর জাফর আলী খান জামালীর সাপ্তাহিক তানজিম এর সম্পাদকের দ্বায়িত্বও পালন করেন। তিনি ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৮ পর্যন্ত এই পত্রিকার সাথে যুক্ত থাকেন। এরপর ১৯৪৯ থেকে ১৯৫২ পর্যন্ত রাওয়ালপিন্ডির দৈনিক তামির এর সম্পাদক পদে নিযুক্ত থাকেন। সে পত্রিকাটিকে নসিম হিজাজী অনন্য উচ্চতায় পৌছে দেন। ১৯৫৩ সালে নসিম হিজাজী ও চৌধুরী এনায়েতুল্লাহ মিলে দৈনিক কোহিস্তান প্রকাশ করেন। যার বেশীরভাগ গুরুত্বপূর্ণ কাজই নসিম হিজাজী পালন করেন। এই পত্রিকা গ্রহণযোগ্যতা ও সফলতার মনজিলে খুব দ্রুত পৌছে যায়। এটা লাহোর এবং মুলতান থেকেও প্রকাশ হওয়া শুরু করে। দেখতে দেখতে পাঞ্জাব থেকেও প্রকাশ হওয়া শুরু করে এবং সব পত্রিকার উপরে চলে যায়। ১৯৬৩ সালে পশ্চিম পাকিস্তান সরকার এর তিনটি এডিশনের উপরেই দুই মাসের জন্য সেন্সরশীপ আরোপ করে। অজুহাত হিসেবে পত্রিকার একটি খবরকে বানায় যে, লাহোরে এহতেজাজি জলসায় পুলিশের গুলিতে তিনজন ছাত্র নিহত হয়েছে। কিন্তু সরকারের ভাষ্য হচ্ছে কেউ নিহত হয় নাই বা আহতও হয়নাই। নসিম হিজাজীকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনাটা পত্রিকার জন্য ক্ষতিকর প্রমাণিত হয়। এর পর এটি আর আগের অবস্থায় ফিরতে পারেনি। তাছাড়া ১৯৬৩ সালে চৌধুরী এনায়েতুল্লাহ এই পত্রিকা থেকে আলাদা হয়ে যান। যাইহোক ১৯৭১ সালে দৈনিক কোহিস্তান প্রকাশিত হওয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর নসিম হিজাজী তার মূল কাজ ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখায় পুরোপুরি মনোনিবেশ করেন। এছাড়াও রাওয়ালপিণ্ডি থেকে প্রকাশিত দৈনিক জঙ্গ পত্রিকায় মাঝেমাঝে ঐতিহাসিক বিভিন্ন বিষয়ের উপর প্রবন্ধ লিখতেন।

উপন্যাসসমূহ
 তিনি তার অধিকাংশ কাজের ভিত্তি হিসেবে বেছে নিয়েছেন ইসলামী ইতিহাসকে। ইসলামের ইতিহাস নিয়ে তার এই কাজের মধ্যে তিনি ইসলামী সাম্রাজ্যের উত্থান ও পতন দুটোই দেখিয়েছেন। তার উপন্যাস মোহাম্মদ বিন কাসিম, আখেরি মা’রেকা, কায়সার ওয়া কিসরা ও কাফেলায়ে হেজাজ এর মধ্যে ইসলামী সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাদিক্ষায় উন্নতির যুগ বর্ণনা করেন। আবার ইউসুফ বিন তাশফিন, শাহিন, কালিসা আওর আগ এবং আন্ধেরি রাত কি মুসাফির এই বইগুলোতে স্প্যানিশদের পুনরায় বিজয়ের বর্ণনা দিয়েছেন। এগুলোর একটার(কালিসা আওর আগ) এর মধ্যে তিনি বেদনাময় তথাপি সত্যভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন কুখ্যাত স্পানিশ ইনকুইজিশন এর ব্যাপারটা। যা শুরু হয়েছিল স্পানিশ ইহুদিদেরকে লক্ষ্য করে এবং শেষ হয়েছিল স্প্যানিশ মুসলমানদেরকে নির্বাসন বা জোরপূর্বক বাহ্যিকভাবে খৃষ্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত করার মাধ্যমে। আখেরি চটান উপন্যাসে বর্ণনা করেছেন মধ্য এশিয়ায় চেঙ্গিস খানের বিজয় ও খারেজম সাম্রাজ্যের ধ্বংস হয়ে যাওয়া। এই বইতে দেখিয়েছেন মোঙ্গলদের নৃশংস বিজয় এবং চেঙ্গিস খানের সামরিক প্রতিভা। সুলতান জালালুদ্দিন খারেজম শাহের দৃঢ়তা এবং বাগদাদের আব্বাসি খলিফার দুর্দশা। তিনি ব্রিটিশদের ভারত জয়ের উপর দুটো ধারাবাহিক উপন্যাস লিখেছেন। সেখানে বর্ণনা করেছেন মোঘল সাম্রাজ্য অকার্যকর হয়ে যাওয়ার পর ভারতীয় জাতির পতন সম্পর্কে। মোয়াজ্জম আলী বইটা শুরু হয়েছে পলাশীর যুদ্ধের কিছুদিন পূর্বের কাহিনী দিয়ে। মূল চরিত্র মোয়াজ্জম আলী যিনি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে নবাব সিরাজুদ্দৌলার সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। উপন্যাস মূল চরিত্রকে কেন্দ্র করে এগিয়ে যেতে থাকে। সে হারানো গৌরব ও স্বাধীনতা ফিরে পেতে ভারতের বিভিন্ন স্থানে যায়। তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। সর্বশেষ সে সেরিঙ্গাপটমে বসতি স্থাপন করে যা উদীয়মান শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছিল হায়দার আলীর উচ্চ ব্যক্তিত্ত দ্বারা। এই বইটি শেষ হয়েছে মোয়াজ্জম আলীর মৃত্যু দ্বারা। দ্বিতীয় বই “আওর তলওয়ার টুট গাই” এর মধ্যে হায়দার আলীর ছেলে টিপু সুলতান সম্পর্কে বিস্তারিত আছে। এছাড়াও তিনি পাকিস্তানের স্বাধীনতা সম্পর্কে খাক আওর খুন নামে একটি উপন্যাস লিখেছেন।

মৃত্যু ও উত্তরাধীকার 
জীবনের শেষ দিকে নসীম হিজাজী বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. আব্দুল কাদির খানের উৎসাহে সিয়াচেন যুদ্ধে পাকিস্তানি সৈন্যদের বীরত্বের উপর একটি উপন্যাস লেখছিলেন। তার আগেই কঠিন রোগ তাকে পেয়ে বসে। ২ মার্চ ১৯৯৬ সালে রাওয়ালপিণ্ডিতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ইসলামাবাদ কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

পুরস্কার
১৯৯২ সালে পাকিস্তান সরকার কতৃক প্রাইড অফ পারফরম্যান্স পুরস্কার প্রদান করেন সাহিত্য এ উলেখ্যযোগ্য অবদান এর জন্য।

এই লেখকের আরো বই