চাঁদের বুড়ির বয়স যখন ষোলো (হার্ডকভার)

উসমানি খিলাফতের ইতিহাস (একত্রে)

    খিলাফতব্যবস্থা পৃথিবীর ইতিহাসে দোর্দণ্ড প্রতাপের সঙ্গে দীর্ঘ সময় টিকে থাকা একমাত্র শাসনব্যবস্থা। প্রায় সাড়ে ১৩ শ বছর এই শাসনব্যবস্থা পৃথিবীকে নেতৃত্ব দিয়েছে শান্তি-শৃঙ্খলা ও ইনসাফের সঙ্গে। খিলাফতে রাশিদার পর নেতৃত্বের বাগডোর ছিল বংশপরম্পরায়। সর্বশেষ খিলাফতের নেতৃত্ব দিয়েছে তুর্কি বংশোদ্ভূত উসমানিগণ। ইতিহাসে যাঁরা অটোমান হিসেবে পরিচিত। এই বইয়ে আলোচিত হয়েছে উসমানি সাম্রাজ্যের উত্থান ও পতন নিয়ে। সেলজুক সাম্রাজ্যের পতনের পর উসমানি সাম্রাজ্যের উত্থান ছিল সর্বব্যাপী। জ্ঞান-বিজ্ঞান, রাজনীতি, অর্থনীতি, তথ্যপ্রযুক্তি, যুদ্ধ এবং সমরবিজ্ঞান—এককথায় মানুষের জাগতিক জীবনের এমন কোনো বিভাগ ছিল না, যেখানে উন্নতির ছোঁয়া তারা পৌঁছে দেয়নি। উসমানি সুলতান মুহাম্মাদ আল ফাতিহের কনস্টান্টিনোপল বিজয় ছিল এই সাম্রাজ্যের সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনা। তাঁর পরবর্তী একের পর এক শক্তিমান সুলতান এসে এশিয়া, আফ্রিকা আর ইউরোপ জয় করে নিয়েছেন। পৃথিবী থেকে অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার দূর করে ইসলামের বিজয়পতাকা উড্ডীন করেছেন। একসময় এই বিশাল শক্তিধর সাম্রাজ্য ক্রুসেডীয় আক্রমণে জর্জরিত হয়। সুলতানগণ দুর্বল হতে থাকে। বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে মুসলমানরা পশ্চিমাদের নিকট পরাজিত হতে থাকে। জনগণ ও বুদ্ধিজীবী-শ্রেণি পশ্চিমা সেকুলার চিন্তা দ্বারা প্রভাবিত হয়। তারপর নানা ষড়যন্ত্রে শত বছরের প্রচেষ্টায় উসমানি শাসনের পতন ঘটানো হয়। এই বইয়ে আলোচিত হয়েছে কীভাবে উত্থান হয়েছিল উসমানি সাম্রাজ্যের। তারপর কীভাবে খিলাফতের নেতৃত্ব তাঁদের হাতে আসে। কীভাবে এই উসমানি সাম্রাজ্য প্রায় ৭০০ বছর শাসনের পর নেতৃত্ব হারায় এবং সাড়ে ১৩ শ বছর নেতৃত্ব দেওয়া খিলাফতব্যবস্থার পতন হয়। কীভাবে খিলাফতব্যবস্থার পতন ঘটিয়ে পশ্চিমা সেকুলার গণতন্ত্র মুসলিম উম্মাহর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে আরও নানাবিধ করুণ ষড়যন্ত্রের ইতিহাস এই বইয়ে তুলে ধরা হয়েছে। মুসলিম উম্মাহ আজ হতাশ, দিকভ্রান্ত। তাদের কোনো অভিভাবক নেই। যে যেভাবে পারছে খাবলে খাচ্ছে। তারপরও বিশ্বব্যাপী উম্মাহ ঘুরে দাঁড়াবার প্রচেষ্টায় লিপ্ত। মুসলিম তরুণদের উদ্দীপ্ত করতে, আশার আলো জাগাতে লেখক সুসংক্ষিপ্ত আলোচনা করেছেন, দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন। হৃদয় স্পর্শ করা উত্তপ্ত কথামালা দ্বারা জ্বালিয়েছেন চেতনার মশাল। ‍উল্লেখ করেছেন নবিজির হাদিস—‘নবুওয়াতের আদলে আবারও আসবে খিলাফত।’ সর্বোপরি বইটি উন্মোচিত করবে আমাদের অতীত-ভুল, যার কারণে মুসলিম উম্মাহ আজ লাঞ্ছিত; দেখাবে বিজয়ের পথ, যার মাধ্যমে আবারও আলোকিত হবে পৃথিবী।
Cash On Delivery
7 Days Happy Return
Delivery Charge Tk. 50(Online Order)
ড. আলি মুহাম্মাদ সাল্লাবি। ফকিহ, রাজনীতিক ও বিশ্বখ্যাত ইতিহাসগবেষক। ইসলামের ইতিহাসের উপর বিশ্লেষণধর্মী তাত্ত্বিক গ্রন্থ রচনা করে দুনিয়াজোড়া খ্যাতি অর্জন করেছেন। এই মহা মনীষী ১৯৬৩ সনে লিবিয়ার বেনগাজি শহরে জন্মগ্রহণ করেন। প্রাথমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পড়াশোনা বেনগাজিতেই করেন।

যৌবনের প্রারম্ভেই গাদ্দাফির প্রহসনের শিকার হয়ে শায়খ সাল্লাবি আট বছর বন্দি থাকেন। মুক্তি পাওয়ার পর উচ্চ শিক্ষার জন্য তিনি সাউদি আরব চলে যান। মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়া ও উসুলুদ্দিন বিভাগ থেকে ১৯৯৩ সনে অনার্স সম্পন্ন করেন। তারপর চলে যান সুদানের উম্মু দুরমান বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে উসুলুদ্দিন অনুষদের তাফসির ও উলুমুল কুরআন বিভাগ থেকে ১৯৯৬ সনে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। সেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই ১৯৯৯ সনে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল ‘ফিকহুত তামকিন ফিল কুরআনিল কারিম’।

ড. আলি সাল্লাবির রাজনৈতিক দীক্ষাগুরু বিশ্বখ্যাত ফকিহ ও রাজনীতিক ড. ইউসুফ আল কারজাবি। কারজাবির সান্নিধ্য অর্জনে তিনি ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে কাতার গমন করেন।

নতুন ধারায় সিরাত ও ইসলামি ইতিহাসের তাত্ত্বিক গ্রন্থ রচনা করে ড. আলি সাল্লাবি অনুসন্ধিৎসু পাঠকের আস্থা ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। নবিজির পুর্ণাঙ্গ সিরাত, খুলাফায়ে রাশিদিনের জীবনী, উমাইয়া খিলাফত, আব্বাসি খিলাফত, উসমানি খিলাফতের উত্থান-পতনসহ ইসলামি ইতিহাসের সাড়ে তেরোশ বছরের ইতিহাস তিনি রচনা করেছেন। তা ছাড়া ইসলামি ইতিহাসে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করা ব্যক্তিদের নিয়ে তিনি আলাদা আলাদা গ্রন্থ রচনা করেছেন।

ড. আলি মুহাম্মাদ সাল্লাবির রচনা শুধু ইতিহাসের গতানুগতিক ধারাবর্ণনা নয়; তাঁর রচনায় রয়েছে বিশুদ্ধতার প্রামাণিক গ্রহণযোগ্যতা, জটিল-কঠিন বিষয়ের সাবলীল উপস্থাপনা ও ইতিহাসের আঁকবাঁকের সঙ্গে সমকালীন অবস্থার তুলনীয় শিক্ষা। এই মহা মনীষী সিরাত, ইতিহাস, ফিকহ ও উলুমুল কুরআনের উপর আশির অধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর রচনাবলি ইংরেজি, তুর্কি, ফরাসি, উর্দু ও বাংলা ভাষায় অনূদিত হয়ে পৃথিবীর জ্ঞানগবেষকদের হাতে হাতে পৌঁছে যাচ্ছে। 

এই লেখকের আরো বই