চাঁদের বুড়ির বয়স যখন ষোলো (হার্ডকভার)

বিষাদ পেরিয়ে

    "বিষাদ পেরিয়ে" বইয়ের ফ্ল্যাপের লেখা: অনুব্রত সত্তর পার করেছেন এক বছর হল। স্ত্রী করবী আর-কয়েক বছর পরেই সত্তর ছোঁবেন। দুই ছেলে রাজা ও ছােটু যথাক্রমে সিডনি ও বেঙ্গালুরুতে নিজেদের জীবন নিয়ে ব্যস্ত। সল্টলেক নিবাসী অনুব্রতকরবীর নিঃসঙ্গ জীবনে উপস্থিত হয় দু’টি মেয়ে। পেয়িংগেস্ট হিসেবে তাদের বাড়ি আসে রূপসা ও সম্পূর্ণা। বহরমপুরের শিক্ষক নেতা পরিমল সেনের মেয়ে রূপসা রিসার্চ করছে সিপাই বিদ্রোহ ও তৎকালীন সংবাদপত্র বিষয়ে। সেই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় নির্যাতন-বিরােধী একটি গ্রুপের সঙ্গে সে জড়িত। গুসকরার সম্পূর্ণা কেমিস্ট্রি নিয়ে এম এসসি-তে ভর্তি হয়েছে। মামাতাে দাদার ব্ল্যাকমেইলের শিকার সে। বয়স্ক দম্পতির বর্তমান শূন্যতাকে কতটা ভরিয়ে দেয় এই দুটি জীবন? নতুন প্রজন্মের স্পর্শে কিছু কি বদলায় অনুব্রত করবীও? সুচিত্রা ভট্টাচার্যের ‘বিষাদ পেরিয়ে’ উপন্যাসে মানুষের বিপন্নতার পাশে এসে দাড়ায় মানুষেরই সাহস, শুভবােধ এবং অতলান্ত মায়া।
Cash On Delivery
7 Days Happy Return
Delivery Charge Tk. 50(Online Order)
সুচিত্রা ভট্টাচার্য
সুচিত্রা ভট্টাচার্য বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে আত্মপ্রকাশ করা একজন ভারতীয় বাঙালি সাহিত্যিক। সুচিত্রা ভট্টাচার্যের বই সমূহ পাঠকদের প্রবলভাবে টানতে পেরেছে সমসাময়িক মধ্যবিত্ত শহুরে জীবনের টানাপোড়েন, পরিবর্তনশীল মূল্যবোধ আর নৈতিক অবক্ষয়কে ফুটিয়ে তোলার মাধ্যমে। সেই সাথে নারীর জীবনের দুঃখ-যন্ত্রণা, অনুভূতিগুলোও ছিলো সুচিত্রা ভট্টাচার্য এর বই সমগ্র’র আরেক উপজীব্য বিষয়। সুচিত্রা ভট্টাচার্য ১৯৫০ সালের ১০ই জানুয়ারি বিহারের ভাগলপুরে মামারবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। যদিও লেখিকার বাবার বাড়ি ছিলো মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরে। কিন্তু লেখিকার স্কুল ও কলেজ জীবনের পুরোটাই কাটে কলকাতা শহরে। কলকাতার যোগমায়াদেবী কলেজ থেকে তিনি স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে যান উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষালাভের সময়ই তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। কর্মজীবনে প্রথমে বিভিন্নস্থানে চাকরি করে সরকারি চাকরিতে থিতু হন। কিন্তু ২০০৪ সালে পুরোপুরিভাবে লেখালেখিতে মনোনিবেশ করার জন্য চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে দেন। প্রায় সাড়ে তিন দশকের দীর্ঘ সাহিত্যিক জীবনে সুচিত্রা ভট্টাচার্য অসংখ্য ছোটগল্প ও চব্বিশটি উপন্যাস রচনা করেছেন। তিনি বাংলা সাহিত্যে ‘মিতিন মাসি’র মতো নারী গোয়েন্দা চরিত্র সৃষ্টি করে গিয়েছেন যা পাঠকদের কাছে আজও সমান জনপ্রিয়। সুচিত্রা ভট্টাচার্যের ছোটগল্পগুলো দিয়েই মূলত তিনি সাহিত্যে প্রবেশ করেন। কিন্তু তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো তাঁকে লেখক হিসেবে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কাছের মানুষ, দহন, কাচের দেওয়াল, হেমন্তের পাখি, নীল ঘূর্ণি, অলীক সুখ, গভীর অসুখ, উড়ো মেঘ, ছেঁড়া তার, আলোছায়া, অন্য বসন্ত, পরবাস, পালাবার পথ নেই, আমি রাইকিশোরী ইত্যাদি। সুচিত্রা ভট্টাচার্যের উপন্যাস গল্প ‘দহন’ অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাতা ঋতুপর্ণ ঘোষ ১৯৯৭ সালে একই নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। এছাড়াও লেখিকার উপন্যাস অবলম্বনে ‘ইচ্ছে’, ‘রামধনু’, ‘অলীক সুখ’, ‘অন্য বসন্ত’ এর মতো বেশ কিছু জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। সাহিত্যে অবদানের জন্য এই বাঙালি নারী সাহিত্যিক কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুবনমোহিনী মেডেল (২০০৪), কথা পুরস্কার (১৯৯৭), তারাশংকর পুরস্কার (২০০০), দ্বিজেন্দ্রলাল পুরস্কার (২০০১), শরৎ পুরস্কার, ভারত নির্মাণ পুরস্কার, সাহিত্য সেতু পুরস্কার, শৈলজানন্দ স্মৃতি পুরস্কার এর মতো নানা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। আজীবন তিনি কলকাতার ঢাকুরিয়ার বাড়িতে বসে লেখালেখি চালিয়ে গিয়েছেন। সেখানেই ২০১৫ সালের ১২ই মে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পরলোকগমন করেন সুচিত্রা ভট্টাচার্য।

এই লেখকের আরো বই